বন্দু

————– শরতের শুভেচ্ছা ———-
__________/এম এ মেহেরাজ_______
শান্তা,
শরতকালে ফুটে থাকা
কাশফুল দেখেছো তুমি?
কেমনভাবে রাঙিয়ে তুলে
পাহাড়ি বনভূমি।

দেখেছো বন্ধু রক্তিম সূর্য
কেমনে অস্ত যায়?
পাহাড়ের বুকে নদি ধরে
মাঝি নৌকা বায়?

পাহাড়ী বনে সারি সারি গাছ
দেখেছো বন্ধু তুমি?
কেমন করে বুকের মাঝে
আঁকড়ে রাখে ভূমি।

শরতকালেরর শুভেচ্ছা বন্ধু
রইলো তোমার তরে,
সুভাষিত আর সৌন্দর্য
বয়ে যাক জীবন ভরে।

Advertisements

ছড়া

শীত আসে
এম এ মেহেরাজ

শীত আসে গাছের ডালে
শীত আসে নায়ের পালে
শীত আসে রসে,
শীত আসে সবুজ ঘাসে
শীত আসে হাওয়ায় ভেসে
শীত আসে দেশে।

শীত আসে রাঙা ভোরে
শীত আসে ঘরের দোরে
শীত আসে ক্ষেতে,
শীত আসে শিশির ঘাসে
শীত আসে পুকুর মাঝে
শীত আসে মেতে।

শীত আসে ভাঁপা পিঠায়
শীত আসে মায়ের মায়ায়
শীত আসে নেচে,
শীত আসে কনকনিয়ে
শীত আসে মনমাতিয়ে
শীত আসে হেসে।

ছড়া

গরুদের সমাজে বাঘ মামার বাস,
গরু সমাজের কাছে বাঘ মানে ত্রাস।
এলো মানে জম এলো বুঝি প্রাণ যায়,
প্রাণ যাবে এই ভয়ে সবাই পালায়।

গরুরা খুব অসহায় সমাজের মাঝে,
জ্বালাতন সয়ে যায় সদা চোখ বোঝে।
স্বাধীনতা কি জিনিস জানেনা তা তারা,
এইভাবে কাটবে কি জীবন টা সারা?

হঠাত একদিন এলো বাঘ মামা সেথা,
“আজ থিকা আমি হমু এখানের নেতা।”
২৩ তারিখ পুরোদিন ভোট দিন সবে,
শান্তিতে স্বস্তিতে থাকবেন তবে।

গরুদের মাথায় হাত বুলায় দিয়ে,
চলে যেতে লাগলেন দলবল নিয়ে।
“এর মানে হবে কি নিতে হবে খুঁজি।
হতে পারে দেশটাতে ভোট এলো বুঝি। ”
ভোট/এম এ মেহেরাজ

প্রবন্ধ

Gender.শব্দটি বেশ পরিচিত।”Gender base violence” বাক্যটি তার চেয়েও দ্বিগুণ হারে পরিচিত।সদা সর্বদা যা চোখসম্মুখে ঘটে থাকে তার পরিচিতি দেওয়াটা বেমানান। খাঁটি বাংলায় একদম বেমানান। কেননা এতে পাঠকসমাজ বিরক্তিতে ভুগেন। বর্তমানে সমাজের চিত্র পরিবর্তন হয়েছে। এখনকার সমাজ আর সেকেলে অবস্থায় নেই। পরিবর্তন ঘটেছে আকাশ-পাতাল সম। এই সংসারের শিশু থেকে বয়োবৃদ্ধ সকলেই প্রযুক্তির রঙে রঙিন। এখানে সবকিছু সহজ থেকে আনিন্দ্য সহজতর। কোন কিছুতে বিস্ময়ের ছাঁয়া মাত্র নেই। কারণ আধুনিকতা তার নিজের সৃষ্টির লগ্নে বিস্ময় নিয়ে জন্মেছিলো। তার সেই জন্ম “বিস্ময়কর”শব্দটিকে যেন ‘ডাইনোসরের’সাথে অজানায় পাঠিয়ে দিয়ে ক্ষান্ত হয়েছে। তাই মানুষ আজ কোন কিছুতেতে বিস্ময় প্রকাশ করেনা। আশ্চর্য হয়না। বাঙালিতো মোটেইনা।জেন্ডার নিয়ে কিছু বলতেই এ লেখা।
জেন্ডার বলতে:সমাজ কর্তৃক সৃষ্ট অবস্থাকে বোঝায়। সমাজ যা সৃষ্টি করে দেয়। যা দেশভেদে পরিবর্তন হয়।
কিন্তু “জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতা “?তা কি?
আদি থেকে নারী পুরুষের মাঝে গড়ে ওঠা বৈষম্য দূর করতে চেষ্টা করেছেন কবিরা,দার্শনিকরা,সর্বোপরি জ্ঞানী-গুণি ব্যক্তিবর্গরা। তবে সফলতার মঞ্চে দাড়িয়ে কেউ বলতে পারেননি’নারী পুরুষের বৈষম্য দূরীকরণে আমরা সফলতার সাক্ষর রেখেছি।দিন থেকে দিন গত হচ্ছে।গত হচ্ছে যুগ থেকে যুগ। আরো গাঢ রুপ ধারণ করছে এ বৈষম্য। নারীকে বানানো হয়েছে লালসার পুতুল। সমাজের সৃষ্টি বঞ্চনা লাঞ্চনা সহ্য করতে হবে তাকে। তার থাকবেনা কোন অধিকার। না কথা বলার না মত প্রকাশের।
এই বৈষম্য আমরা দেখতে দেখতে প্রায় অভ্যস্ত।এতে আমাদের ভাববিকৃতি ঘটেনা।আমরা বিবেক কে কখনো জিজ্ঞাসা করিনা।বৈষম্যটা কোথায়?
নজরুলের বিখ্যাত সেই ‘সাম্য’ কবিতাটি মুখে মুখে ধ্বনিত হলেও বুঝিনা এর মর্মার্থ।
নারীর অধিকারের কথাটি যখনই সামনে ধ্বনিত হয় তখনই হাজারো বিকৃত কথা জড়ো হতে থাকে।এ কোন ধরণের অধিকার?নগ্নতার অধিকার?নাকি সমাজের শ্লীলতা নষ্টের অধিকার?না তা নয়।কক্ষনোই নয়।এ অধিকার নষ্টরা চায়।সমাজের চিত্রটা একটু মন দিয়ে অঙ্কন করলেই হাজারো অসঙ্গতি বের হয়ে আসবে।যে অসঙ্গতির স্বীকার নারীরা।প্রতিদিন প্রতি মুহূর্তে।আসুন অসঙ্গতি দেখে নেই।

ধর্ষণ। শব্দটি কতইনা পরিচিত। শব্দটি কানে ধ্বনিত হওয়ার সাথে সাথে কত কিছুই না মনে দোলা দিয়ে যায়। কানে ধ্বনিত হয় কিশোরীর বাঁধভাঙ্গা কান্না,ভেসে আসে অসহায় নারীর সম্ভ্রম রক্ষার আত্মচিতকার,অবুঝ শিশুর অবুঝ কান্না।
প্রতিটা দিন প্রতিটা মুহূর্তে দেশের আনাচে-কানাচে ঘটে যাচ্ছে এমন অপ্রকাশিত কান্নার ঘটনা। কখনো কখনো তা ভেসে আসে টেলিভিশনের রঙিন পর্দায়। কত আকর্ষিত আর আলোকিত এই ধর্ষণের খবর। ধর্ষণের খবরে কী অদ্ভুত হয়ে উঠে খবরের কাগজ।কী তরতাজা ছবি ছাপানো হয় ধর্ষিতার।
জানি, ধর্ষণের স্বীকার নারীটি হয়তো তার কাঙ্খিত বিচারের আশা রাখেনা,তবে বেঁচে থাকার আশাতো রাখে!
সে বেঁচে থাকার অধিকার ও আমরা তাকে দেইনা।একটা নারী প্রথম ধর্ষণের স্বীকার হয় একজন পুরুষ দ্বারা।তারপর ধর্ষিত হয় মিডিয়া দ্বারা। কি আশ্চর্য!কিন্তু আমরা কি আশ্চর্য হই?যে অপরাধী তার ছবিটা মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়না।সে তিরস্কারের পাত্র হয়না।কিন্তু যে মেয়েটি দূর্ঘটনার স্বীকার তার ছবিটি আকর্ষিত ভাবে প্রচার করা হয়।ছড়িয়ে দেওয়া হয় দেশ থেকে দেশান্তরে। জানিয়ে দেওয়া হয় “এ নারীটি ধর্ষিতা”। কি নির্মমতা। তার বেঁচে থাকার পথটি এ মিডিয়া বন্ধ করে দেয়।সে নিজেও জানেনা এ কোন পাপের ফল। সর্বশেষ ধর্ষিত হয় ডাক্তারদের দ্বারা।এবং ধর্ষিত হয় পরিবার দ্বারা।পরিবার ধর্ষণের স্বীকার মেয়েটিকে কটু কথা শোনায়।তাকে হেয় করে যেন সে ইচ্ছাকিতভাবে এ ঘটনার জন্য দায়ী। কিন্তু যে পুরুষটি ধর্ষণ করলো তাকে দেখলোনা জাতি,তার সহ্য করতে হয়নি কোন যন্ত্রনা। সে ঠিক-ই পরিবারের স্নেহমাখা আদর ভোগ করছে। অপরাধী আর দূরঘটনার স্বীকার দু’জনের অবস্থা দু’রকম। কারো শোচনীয় কারো নয়। বৈষম্যের স্বীকার হতে হয় নারীটিকে।কেন? সে নারী হয়ে জন্মেছে এইজন্য?এর চাইতে বৈষম্য সমাজে আর কি হতে পারে?
জানিনা এর কোন উত্তর আছে কিনা।

ট্রেইনিং প্রাপ্ত:-
পিএসটিসি,শারীরিক শিক্ষা।
জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতা।
বাংলাদেশ নারীপক্ষ।
“Gender base violence”
এম.এ. মেহেরাজ

রম্যছড়া


————- ধর বেটারে ————-
________|| এম এ মেহেরাজ||_________
শক্ত করে
ধর বেটারে,
শালায় নাকি
জামাত করে।

কত্ত বড়
দাড়ির গোচা
আছেও মোচ
খোঁচা খোঁচা।

নিয়ে চল
স্যারের কাছে
দিতে হবে
আস্ত খিঁচে।

দেখেন স্যার
আনছি কারে,
বেটায় নাকি
জামাত করে।

থতমত খেয়ে
বললেন স্যার,
একি দেখছি
চোখে আমার।

কারে আনছিস
জানিস তোরা?
বলদের দল
কপাল পোড়া।

এতো আমার
প্রিয় কবি,
দেখিনি কভু
আছে ছবি।

তোরা পাপি
তোরা অসুর,
ইনি যে কবি
রবী ঠাকুর।

ছাতামাতা

হানিফ সাহেব নামাজে দাঁড়ালেন।তিনি প্রতিদিন নামাজ পড়তে দাঁড়ান,কিন্তু সমস্যা সেখানে নয়!সমস্যা হচ্ছে তিনি কিছুতেই নামাজে মনস্থির করতে পারলেননা।তার মনে বহু কিছুদিন ধরে যৌতুক যৌতুক করছে এটা তিনি খেয়াল করেছেন।সেই চিন্তা নামাজে এসেও ধরেছে,তিনি চিন্তার জগতে হারিয়ে গেলেন।তিনি ভাবছেন যে নামাজ শেষ করেই বাড়িতে গিয়ে স্ত্রির নিকট সসম্মানে সরাসরি যৌতুক না বলে কিছু টাকা চাইবেন।এবং তার চিন্তার ফল যদি না আসে তার প্রতিশোধ কিভাবে নিবেন তাও চিন্তা করে রাখলেন।পরক্ষণে ভাবলেন না এভাবে যৌতুক চাওয়াতে হারাম হয়!তিনি এবার ভাবলেন যে কৌশলে যৌতুক আদায় করতে হবে।এতে গুনাহ হওয়ার আশঙ্কা নেই।হেকমত অবলম্বনের কথা তিনি কোথায় নাকি শুনেছিলেন।যেটা করে নাকি হারামকে হালাল বানানো যায়। ভালো উপদেশ দেওয়ার মধ্যে দিয়ে যৌতুক চাওয়ার বিষয়টা শুরু করতে হবে এতে সওয়াবো কিছু পাওয়া যাবে হানিফ সাহেবের ধারণা। তার স্ত্রি নামাজ কলমা পড়েনা সারাক্ষণ স্টার জলছা নিয়ে ঘুমায়।তাই তিনি লাষ্ট ডিসিশন নিলেন যে গিয়েই নামাজ পড়েনা কেন এটা বলেই উরুমকিলানি দিবেন এবং সাথে সাথে বোনাস দিবেন যৌতুকের কথা আসলে তা দিতে অস্বীকৃতি জানালে।
হঠাত তিনি চিন্তার ঘোর থেকে বের হয়ে এলেন।তিনি দেখতে পেলেন যে হুজুর রুকু শেষ করে সেজদা শেষ করে আবার দাঁড়ালেন যা তিনি খেয়ালিই করেননি।নামাজ শেষ হলো সবাই তার দিকে তাকিয়ে আছে তাতে হানিফ সাহেব খুব লজ্জিত হলেন এবং সাথে সাথে মসজিদ থেকে বের হয়ে হাটা ধরলেন।মনে মনে বললেন যে না আজ যে চিন্তা করেছেন যেটার জন্য তিনি লজ্জিত হয়েছেন তার সুদে আসলে তিনি তার স্থ্রীকে পিঠিয়ে উসুল করবেন।
#পরিশিষ্ট:কিছু কিছু ব্যাক্তি আমাদের সমাজে বিদ্যমান যারা হারামকে কৌশলে হালাল বানিয়ে নেয় এবং তাতে গুনাহর আশঙ্কা করেননা।
-আলোচ্য বিষয়টা সুস্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারিনি বলে দুঃখিত।

ছড়া মানেই মজা

——-ধুত্তরি ছাই
——–এম এ মেহেরাজ
ধুত্তরী ছাই
শুধু খাই খাই
পেটুক বউয়ের
কাণ্ড
কাজ কাম শেষে
ভাসায় এসে
খালি পড়া দেখি
ভান্ড।

আনলাম একি
রাক্ষুসে ঢেকি
বাজে সারাদিন
শব্দ,
এনে দাও সব
যদি পারো ভব
এই বলে করে
জব্দ।

পারিনা আর
করে সংসার
আমিতো প্রায়
শেষ,
দিয়ে জ্বালাতন
করে শাসন
পায় মজা খুব
বেশ।.